রবিবার, ১২ Jul ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ন

রাজশাহী অঞ্চলে কালবৈশাখী ও শিলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : রাজশাহী অঞ্চলে কালবৈশাখীর সঙ্গে হয়েছে শিলাবৃষ্টি হয়েছে । এতে আমের ক্ষতি হয়েছে। ছোট ছোট আম ঝরে পড়েছে। ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে লিচু এবং ধানেরও। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজশাহী ও এর আশপাশের এলাকায় এই ঝড়-বৃষ্টি হয়।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে ৫টা ২৮ মিনিটে রাজশাহীতে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। শেষ হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। এই সময়ের মধ্যে ২৩ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি চলাকালে বাতাসের গতিবেগ ছিলো ঘন্টায় ৫৬ কিলোমিটার।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমের দ্বিতীয় ভারী বৃষ্টিপাত হলো রাজশাহীতে। আগেরবার শিলা না থাকলেও এবার ছিল। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, শিলাবৃষ্টি শুধু রাজশাহী শহরের ভেতরেই হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে বৃষ্টি হলেও শিলা পড়েনি। তবে ঝোড়ো বাতাস ছিলো। এতে কিছু আম ঝরে পড়তে পারে। শিলা না থাকায় ধান ঝরবে না। যদিও বাতাসের কারণে কিছু পাকা ধানের গাছ মাটিতে শুয়ে পড়তে পারে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, কালবৈশাখীর পর বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়েছি। সেদিকে শিলাবৃষ্টি হয়নি। শিলাবৃষ্টি শুধু রাজশাহী শহরেই হয়েছে। তাই মাঠের ধানের তেমন ক্ষতি হবে না। কিছু পাকা ধান শুয়ে পড়তে পারে। আর কিছু আম ঝরতে পারে। আম তো প্রতি বছরই ঝড়ে পরে। এভাবেই আম বেড়ে ওঠে। ক্ষয়ক্ষতি তেমন হবে না।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, রাজশাহীতে বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৬টায় বাতাসে আর্দ্রতা ৯৪ শতাংশ এবং সন্ধ্যা ছয়টায় ১০০ শতাংশ। দিনভর আকাশে রোদ থাকলেও হঠাৎ করেই বিকালের পর আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়।

এদিকে বৃষ্টি শুরুর পরই নগরীর বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। রাত ৯টার দিকে বিদ্যুৎ সঞ্চালন স্বাভাবিক হয়। আর কালবৈশাখী বয়ে যাওয়ার পর ভারী বর্ষণে মহানগরীর সাহেব বাজার ও গণকপাড়া ছাড়াও উপশহর, বর্ণালীর মোড়, আমবাগান, কলাবাগান, কোর্ট হড়গ্রাম ষষ্টিতলা এলাকায় পানি জমে যায়। এতে লকডাউনের মধ্যেও চলাচলরত যানবাহন ও সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

কালবৈশাখীতে অনেক স্থানেই জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। আম ও লিচুরও ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাজশাহীর পবা, গোদাগাড়ী, বাঘা-চারঘাটসহ বিভিন্ন উপজেলার গ্রামাঞ্চল থেকে গাছপালা ভেঙে পড়া এবং কাঁচাঘর-বাড়ির টিনের চালা উড়ে যাওয়ারও খবর পাওয়া গেছে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com